বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ট্রেনেই মারধরের ঘটনার ১৬ দিন কেটে গেছে। ঘরে ফেরেনি পরিযায়ী শ্রমিক ৩৫ বছরের যুবক সৈকত রায়। ছেলে খুঁজে পেতে থানায় কাছে আরজি জানিয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সের বাবা গোপালকৃষ্ণ রায়।
বিজেপি রাজ্যে বাংলাভাষীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে সরব হয়েছে সিআইটিইউ। উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের কাছে পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে মঙ্গলবার ডেপুটেশন দেওয়া হলেও ছেলের নিখোঁজের কারণে বাবা এতটাই বিধ্বস্ত ছিলেন, ডেপুটেশনে আসতে পারেননি। সন্তানকে খুঁজে দিতে করণদিঘি ব্লকের অফিসারের কাছে বলার জন্য তিনি সিপিআই (এম) নেতৃবৃন্দকে কাতর আবেদন জানান। বাংলা ভাষায় কথা বলের অপরাধে ছেলেকে ওরা কি মেরে ফেলেছে? এই প্রশ্নের সদুত্তর বিডিও দিতে পারেননি। মঙ্গলবার থেকে আজ ৫ দিন কেটে গেছে, পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের গণ ডেপুটেশনের পরেও এখনো ছেলের হদিশ পেলো না পরিবার।
ডালখোলার বাসিন্দা সৈকত রায় পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। গোয়াতে কাজ করতেন। ফের কিছুদিন চেন্নাইয়ে কাজ করে দিল্লিতে কাজে যুক্ত ছিলেন। দিল্লি থেমে মুম্বাই যাওয়ার সময় কয়েকজন যুবক ট্রেন থেকে নামিয়ে তাকে মারধর করে। ঘটনাটা ঘটেছিল ১২ জুলাই। ট্রেনে হেনস্তার সময়ে নিজেই ভিডিও করে সকলের সাহায্য চেয়েছিলেন।
তারপর পরিবারের পক্ষ থেকে সৈকতের ফোন বেজে গেলে এক ট্রেন যাত্রী ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানান, ট্রেনে মোবাইলটা সিটে পড়েছিল। কিন্তু কার মোবাইল জানা যাচ্ছে না। তারপর থেকে মোবাইলের সুইচ অফ হয়ে গেছে।
ঘটনার ১৬ দিন কেটে গেছে, ছেলের হদিশ না পেয়ে সিপিআই (এম) কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাবা গোপালকৃষ্ণ রায় শনিবার করণদিঘির বিডিও’র দ্বারস্থ হন। সঙ্গে ছিলেন কৃষকনেতা সুরজিত কর্মকার, সিআইটিইউ নেতা সুজিত দে সরকার, নির্মাণ কর্মী ইউনিয়নের নেতা সুরেশ গুপ্তা।
“টুকরে টুকরে গ্যাং” বিজেপি সারাদেশে যেভাবে বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিচ্ছে তাতে এইরকম ঘটনা আরো হতে পারে। ৩৪ বছরের বাম শাষনে বিজেপির সাহস হয়নি বাঙালির বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাক্ষিণ্যে তা করার সাহস পাচ্ছে, নিরাপত্তা পাচ্ছে।
#BJPHataoDeshBachao