✍️ মোথাবাড়ি অধিকার সভা : বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর
ভূমিকা : মোথাবাড়ি মাটি আর মানুষের দীর্ঘশ্বাস
মোথাবাড়ি— মালদা জেলার একটি নাম, যেটি শুধু ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, এক বিশাল ইতিহাস আর সংগ্রামের প্রতীক। এই এলাকার মানুষরা বছরের পর বছর ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। গঙ্গাভাঙন, শিক্ষা ও চাকরিতে বঞ্চনা, স্বাস্থ্যসেবার সংকট, সামাজিক বৈষম্য—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখানকার মানুষ বঞ্চনার ভার বয়ে নিয়ে চলেছে।
Mothabari অধিকার সভা সেই বঞ্চনার ইতিহাসকে নতুন করে সামনে এনেছে। এটা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটা হলো মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার এক সংগ্রামী মঞ্চ। যাদের ঘর নেই, যাদের জমি ভেঙে গঙ্গার গর্ভে চলে গেছে, যাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা পেয়েও চাকরি পাচ্ছে না, যাদের রোগ হলে চিকিৎসা করার মতো হাসপাতাল নেই—তাদের একটাই দাবি, “অধিকার চাই, অনুগ্রহ নয়।”
এই সভার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে যে, মানুষ আর চুপ করে থাকবে না। তারা প্রশ্ন করবে, তারা রাস্তায় নামবে, তারা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই চালাবে। ISF-এর নেতৃত্বে এই সভা মথাবাড়ির মানুষকে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে।—
অধ্যায় ১ : গঙ্গাভাঙনের ট্র্যাজেডি
গঙ্গার ভাঙনে ভেঙে পড়া জীবন
গঙ্গা—যেটি একদিকে জীবন দান করে, অন্যদিকে ধ্বংসও ডেকে আনে। মালদা জেলার ভুটনি দ্বীপ আর মথাবাড়ি অঞ্চলের মানুষ গঙ্গার এই ভাঙনের যন্ত্রণা দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করছে। প্রতি বর্ষায় গঙ্গার জল ফুলে ওঠে, আর তার সঙ্গে সঙ্গে মাটির বুক চিরে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, জমিজমা, গাছপালা।
আজ থেকে দশ-পনেরো বছর আগে যেসব গ্রাম ঘনবসতিপূর্ণ ছিল, আজ সেসব জায়গা নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে। মানুষের চোখের সামনে ভেঙে পড়েছে ঘর, জমি, ফসল, এমনকি পিতৃপুরুষের ভিটেমাটি। এই মানুষগুলোর অনেকেই রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে শূন্যতা
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি এসেছে—“পুনর্বাসন হবে, জমি দেওয়া হবে, ঘর তৈরি হবে।” কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ। আজও বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে, ভাঙা বাঁধের ধারে বা অস্থায়ী ত্রিপলের ঘরে দিন কাটাচ্ছে।
একজন ভুটনি দ্বীপের মানুষ বললেন—
> “আমার দাদা নদীতে ভেসে গেলেন, আমাদের ভিটেমাটি গেল, এখন আমরা পরের জমিতে মাথা গুঁজে আছি। প্রতিশ্রুতি শুনি, কিন্তু ঘর পাই না।”
শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
ভাঙনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশু ও তরুণ প্রজন্ম। স্কুলে যাওয়ার পথ ভেঙে গেছে, অনেক স্কুল ভাঙনের কারণে স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা মাঝপথে থেমে গেছে।
অনেক শিশুই ভাঙনের কারণে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারও কাছে বই নেই, কারও কাছে ইউনিফর্ম নেই, আবার কেউ কেউ পুরোপুরি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।
একের পর এক ট্র্যাজেডির কাহিনি
এক কৃষক, যিনি নিজের ধানখেত ভেঙে যাওয়ার পর দিনমজুরিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
এক গৃহবধূ, যিনি নদী ভাঙনে ঘর হারিয়ে এখন অন্যের জমিতে খুপরি ঘরে থাকেন।
এক তরুণ, যিনি কলেজে পড়াশোনা করেও কাজ পাননি, কারণ ঘরবাড়ি হারিয়ে তিনি ঘনঘন স্থানান্তরিত হচ্ছেন।এমন হাজারো কাহিনি মথাবাড়ি ও ভুটনি দ্বীপের প্রতিটি মানুষের জীবনে ছড়িয়ে আছে।
বঞ্চনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠল ISF : সাবিনা ইয়াসমিন ও সাবিত্রী মিত্রকে হুঁশিয়ারি”
মালদার মথাবাড়িতে রবিবার অনুষ্ঠিত হল ISF-এর অধিকার সভা। শত শত সাধারণ মানুষ ও কর্মীর উপস্থিতিতে সভা ভরিয়ে দেন জেলা সভাপতি আলি কালিমুল্লাহ। গঙ্গাভাঙন, পুনর্বাসন, OBC-দের অধিকার, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ—এই সব ইস্যুতে কেন্দ্র করেই গর্জে ওঠে মঞ্চ।
সভা থেকে সরাসরি নাম করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় এলাকার দুই বিধায়ককে—
সাবিনা ইয়াসমিন (তৃণমূল) ও সাবিত্রী মিত্র (কংগ্রেস)।
জেলা সভাপতির কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট ক্ষোভ—
👉 “মানুষ বছরের পর বছর আপনাদের ভোট দিয়েছে। অথচ আজও তাদের ঘর নেই, কাজ নেই, পুনর্বাসন নেই। OBC ছাত্র-ছাত্রীরা সুযোগ পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষকে অবহেলা করা বন্ধ করুন, না হলে রাস্তায় নেমে কঠোর আন্দোলন হবে।”
সভায় আরও দাবি তোলা হয়—
গঙ্গাভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অবিলম্বে স্থায়ী পুনর্বাসন দিতে হবে।
OBC সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও চাকরির সংরক্ষণ কার্যকর করতে হবে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুলে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
সভা থেকে শ্লোগান ওঠে—
“অধিকার চাই, অনুগ্রহ নয়”
“মানুষ বাঁচাও, ভাঙন থামাও”
সভা শেষে জেলা সভাপতি স্পষ্ট বার্তা দেন—
👉 “আমরা সাধারণ মানুষের পক্ষে লড়ছি। যদি বিধায়করা জনগণের সমস্যার সমাধান না করেন, তাহলে ISF রাস্তায় নেমে জবাব দেবে।”
“২০২৬-এ ISF বিধায়ক হলে মথাবাড়ির মানুষের আর বঞ্চনা থাকবে না”
মালদার মথাবাড়ি—গঙ্গাভাঙন, পুনর্বাসন, শিক্ষা-চাকরিতে বঞ্চনা আর স্বাস্থ্যসেবার সংকটে জর্জরিত এই অঞ্চল বহুদিন ধরেই অবহেলিত। রবিবার অনুষ্ঠিত ISF-এর অধিকার সভায় জেলা সভাপতি আলি কালিমুল্লাহ স্পষ্ট বার্তা দিলেন—
👉 “যদি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মথাবাড়ি আসন থেকে ISF বিধায়ক নির্বাচিত হয়, তবে এখানকার সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা থাকবে না।”
সভা থেকে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী—
গঙ্গাভাঙন ও ভুটনি দ্বীপের মানুষকে স্থায়ী পুনর্বাসন দেওয়া হবে।
শিক্ষা ও চাকরিতে OBC-দের ন্যায্য সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে।
প্রত্যন্ত গ্রামে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।
প্রতিটি গ্রামে ভাল রাস্তা ও বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।
বেকারদের জন্য চাকরির বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সভায় জেলা সভাপতি বলেন—
👉 “এলাকার মানুষ অনেকদিন ধরে অবহেলার শিকার। তৃণমূল বা কংগ্রেসের বিধায়কেরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কাজ করেননি। ISF জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে মথাবাড়ি হবে উন্নয়নের মডেল।”
সভায় উপস্থিত মানুষও শ্লোগানে গর্জে ওঠেন—
“২০২৬-এ বদল চাই, ISF চাই”
“অধিকার চাই, প্রতিশ্রুতি নয়”
রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যদি মথাবাড়িতে ISF শক্তিশালী প্রার্থী দেয়, তবে এই আসন আগামী নির্বাচনে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জন্য বড়
চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সভা থেকে আলি কালিমুল্লাহ সরাসরি বলেন —
👉 “যদি ২০২৬ সালে মথাবাড়ির মানুষ আমাদেরকে বিধায়ক করার সুযোগ দেন, তবে এখানকার সাধারণ মানুষের আর কোনো অসুবিধা থাকবে না। গঙ্গাভাঙনের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্থায়ী পুনর্বাসন, শিক্ষা ও চাকরিতে OBC সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ—সব দিকেই মথাবাড়িকে উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া হবে।”
সভার মূল দাবি ও প্রতিশ্রুতি :
গঙ্গাভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্থায়ী পুনর্বাসন।
OBC শ্রেণির ছাত্র-যুবকদের শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ বাস্তবায়ন।
মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল নির্মাণ।
গ্রামীণ স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়ন।
মথাবাড়িতে রাস্তা, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থানের প্রসার।
সভায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় তারা বঞ্চিত। অনেকেই বলেন, এখন সময় এসেছে প্রকৃত অধিকার আদায়ের জন্য একজোট হওয়ার।
রাজনৈতিক বার্তা
সভা থেকে মালদার দুই বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ও সাবিত্রী মিত্রকেও কড়া ভাষায় সতর্ক করে ISF জেলা সভাপতি জানান —
👉 “মানুষকে হেনস্তা করলে এবা
র জনগণই জবাব দেবে।”
